‘বোরেই ২’ শ্রেণির ‘দ্য নিয়াজ ভ্লাদিমির’ বা ‘প্রিন্স ভ্লাদিমির’ সাবমেরিনটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাবমেরিন।
প্রায় ছ’হাজার মাইল বা ৯ হাজার ৩০০ কিলোমিটার দূরের কোনও লক্ষ্যবস্তুকে এক নিমেষে ধ্বংস করে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে প্রিন্স ভ্লাদিমিরের। শুধু তাই নয়, এক সঙ্গে ২০টি পরমাণু অস্ত্র ছুড়ে লক্ষ্যবস্তুকে ধুলিসাত্ করে দিতে পারে এটি। সাবমেরিনগুলোকে এমন ভাবে বানানো হয়েছে যে রাডার-এরও ক্ষমতা হবে না সেগুলোকে চিহ্নিত করার। রাডার-এর চোখ এড়াতে সমুদ্রের ৪০০ মিটার গভীরেও অবাধে চলতে পারে এই সামুদ্রিক দানব।উত্তর রাশিয়ার সেভম্যাশ শিপইয়ার্ডে এই সাবমেরিন তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে। এটাই এখন পর্যন্ত রাশিয়ার সবচেয়ে অত্যাধুনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন।
রাশিয়ার এই বোরেই শ্রেণির সাবমেরিনগুলো বুলাভা আরএসএম-৫৬ ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইলে সজ্জিত।রাশিয়ার সর্বশেষ বোরেই সাবমেরিনে ছিল ১৬টি মিসাইল টিউব। নতুন সংস্করণে আরও চারটি অতিরিক্ত টিউব যোগ করা হয়েছে।নৌবাহিনীর সাবমেরিন বহরে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ার পর একে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক মিসাইল ‘বুলাভা আরএসএম৫৬’ দ্বারা সজ্জিত করা হবে। এ মিসাইল ৬ হাজার মাইল দূরের যে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।
বুলাভা হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম ‘গতিপথ পরিবর্তনে সক্ষম’ (ম্যান্যুয়েভারেবল) মিসাইল।সমরশক্তিতে আরেক মহারথী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক ‘ওহাইও ক্লাস’ সাবমেরিন অবশ্য একত্রে ২৪টি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু এর সর্বোচ্চ পাল্লা ৪,৮৪৬ মাইল।এছাড়া প্রিন্স ভ্লাদিমিরের মতো সমুদ্রের ৪০০ মিটার গভীরে ডুব দিয়ে রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম নয় ‘ওহাইও ক্লাস’।


Post A Comment: