ভারতের সামরিক বাহিনী বলতে বোঝায় ভারতীয় সেনাবাহিনী, ভারতীয় নৌবাহিনী ও ভারতীয় বিমানবাহিনী। ২০১৯ সালের হিসেব অনুযায়ী, ভারতের সামরিক বাহিনী গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের পরেই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম সামরিক বাহিনী।ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং স্ট্রাটেজিক ফোর্সেস কম্যান্ড সেনাবাহিনীর প্রধান সহকারী বাহিনী। ভারতের সরকারি প্রতিরক্ষা বাজেট ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।তবে সামরিক খাতে আরও অনেক অর্থ ব্যয়িত হয়ে থাকে।
বর্তমানে সেনাবাহিনীর ব্যাপক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের কাজ চলছে। ভারতীয় সামরিক বাহিনী সক্রিয়ভাবে সামরিক মহাকাশ কর্মসূচির পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে। এছাড়া ভারতের সামরিক বাহিনী একটি মিশাইল প্রতিরক্ষা শিল্ড ও পারমাণবিক ট্রায়াড ক্ষমতাও গড়ে তুলছে। ভারতের সামরিক বাহিনীর ভাণ্ডারে পরমাণু অস্ত্র, কম ও মাঝারি দুরত্বের ব্যালিস্টিক মিশাইল এবং পারমাণবিক অস্ত্র বহনক্ষম বিমান ও নৌযান রয়েছে।
ভারতের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর লক্ষাধিক কর্মচারীর নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ৯,৯৭০.১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডেডিকেটেড, উচ্চ নিরাপত্তাযুক্ত, স্টেট-অফ-দি-আর্ট অপটিক্যাল ফাইবার কেবল (ওএফজি) নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ভারতীয় সামরিক বাহিনীই কেবল এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী বা ভারতীয় স্থলসেনা :-
ভারতীয় স্থলসেনা হচ্ছে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর বৃহত্তম শাখা। এই শাখার উপর ন্যস্ত রয়েছে যাবতীয় স্থলভিত্তিক সামরিক কার্যাবলির দায়িত্ব।
এই বাহিনীর প্রাথমিক লক্ষ্যগুলি হল: বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করা, আভ্যন্তরিন শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা, সীমান্ত প্রহরা ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী অপারেশন পরিচালনা করা।
এছাড়াও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য দুর্বিপাকের সময় উদ্ধারকাজ সহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজও সেনাবাহিনী করে থাকে।
ভারতের রাষ্ট্রপতি সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
ভারতীয় সেনাবাহিনী পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী। এই বাহিনীতে কার্যরত সেনা-জওয়ানের সংখ্যা ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি এবং সংরক্ষিত ট্রুপের সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ জন।
এটি সম্পূর্ণত স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন। যদিও ভারতীয় সংবিধানে সামরিক পরিকল্পনার একটি উল্লেখ থাকলেও তা কখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতাপ্রাপ্তির অব্যবহিত পরেই ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধিকাংশ রেজিমেন্টকে একত্রিত করে ভারতীয় সেনাবাহিনী গঠিত হয়।
রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষীবাহিনীর সদস্য হিসেবে বিশ্বের বহু অশান্ত অঞ্চলে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়োগ করা হয়েছিল।
বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর স্থলসেনাপ্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত। ফিল্ড মার্শাল এই বাহিনীর সর্বোচ্চ পদ।
ভারতের রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শক্রমে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এই পদ প্রদান করতে পারেন। অদ্যাবধি মাত্র দুজন অফিসার এই পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
ভারতীয় নৌবাহিনী বা ভারতীয় নৌসেনা :-
ভারতের রাষ্ট্রপতি ভারতীয় নৌবাহিনীর সর্বাধিনায়ক।
৫০০০ নৌ বৈমানিক শাখাসদস্য ও ২০০০ মেরিন কম্যান্ডো সহ প্রায় ৫৮,৩৫০ সক্রিয় সেনাকর্মী সম্বলিত এই নৌবাহিনী বিশ্বে পঞ্চম বৃহত্তম।
ভারতীয় নৌবাহিনীতে বর্তমানে ২৯৫টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখনীয় যুদ্ধবিমান বাহক আইএনএস বিরাট, আইএনএস বিক্রমাদিত্য।
১৯৭১ সালের ৮ঠা ডিসেম্বর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৭১ এর অংশ হিসেবে অপারেশন ট্রাইডেন্ট নামক এক হামলায় ভারতীয় নৌসেনা পাকিস্তানদের করাচিবন্দরে সফল হামলা করে।
প্রতি বছর ৪ঠা ডিসেম্বর নৌবাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হয়।
ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় বায়ুসেনা:-
ভারতের সামরিক বাহিনীর বৈমানিক শাখার প্রাথমিক দায়িত্ব হল ভারতের আকাশপথ সুরক্ষিত রাখা ও আকাশে সংঘটিত যুদ্ধ পরিচালনা করা।
১৯৩২ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্যের সহায়ক বিমান বাহিনীরূপে ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সের প্রতিষ্ঠা।
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সেবার স্বীকৃতি স্বরূপ বাহিনীর নামের সঙ্গে রয়্যাল উপসর্গটি যুক্ত হয়। ১৯৪৭ সালে যুক্তরাজ্যের অধীনতাপাশ থেকে মুক্ত হওয়ার পর রয়্যাল ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্স ভারতীয় সংঘের অধীনস্থ হয়।
১৯৫০ সালে ভারত প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ঘোষিত হলে রয়্যাল উপসর্গটি বর্জন করা হয়। স্বাধীনতার পর ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে চারটি ও চীনের সঙ্গে একটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।
এছাড়া যে অভিযানগুলিতে বায়ুসেনা অংশগ্রহণ করেছে সেগুলি হল গোয়া আক্রমণ , অপারেশন মেঘদূত ও অপারেশন ক্যাকটাস।
ভারতের রাষ্ট্রপতি বায়ুসেনার সর্বাধিনায়ক। এয়ার চিফ মার্শাল পদের অফিসার বায়ুসেনাপ্রধান বিমানবাহিনীকে পরিচালিত করেন। সাধারণত একই সময় এক জন বায়ুসেনাপ্রধানই নিযুক্ত থাকেন। একজন মাত্র অফিসার অদ্যাবধি পাঁচ-তারা মার্শাল অফ দ্য এয়ার ফোর্স পদে উন্নীত হয়েছেন।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর কর্মীসংখ্যা ১৭০,০০০; ১,১৩০টি কমব্যাট ও ১,৭০০টি নন-কমব্যাট এয়ারক্র্যাক্ট বর্তমানে সক্রিয় আছে। ভারতীয় বিমানবাহিনী বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বিমানবাহিনী।
সাম্প্রতিককালে ভারতীয় বিমানবাহিনী একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিবর্ধন ও আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে। এই প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবে সোভিয়েত জমানার ফাইটার জেটগুলি বাতিল করা হচ্ছে।
পরিবর্ধন প্রক্রিয়ায় ভারতীয় এমআরসিএ কর্মসূচির অধীনে বায়ুসেনা ১২৬টি নতুন ফাইটার জেট কেনার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাদের অর্থমূল্য ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
| ধরণ | ভারত |
|---|---|
| সক্রিয় সেনা | ১৩ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ জন |
| রিজার্ভ সেনা | ২১ লাখ |
| ট্যাংক | ৪ হাজার ১৮৪টি |
| সাঁজোয়া যান | ২ হাজার ৮১৫টি |
| স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি | ২০০টি |
| তোয়ানো আর্টিলারি | ৪ হাজার ৬০টি |
| রকেট প্রজেক্টর | ২৬৬টি |
| সামরিক বিমান | ২ হাজার ৮২টি |
| যুদ্ধবিমান | ৫২০টি |
| অ্যাটাক বিমান | ৬৯৪টি |
| পরিবহন কাজে ব্যবহৃত বিমান | ২৪৮টি |
| প্রশিক্ষণ বিমান | ৩৬৪টি |
| হেলিকপ্টার | ৬৯২টি |
| অ্যাটাক হেলিকপ্টার | ১৭টি |
| বিমান বন্দর | ৩৪৬টি |
| প্রধান বন্দর | ১২ টি |
| মোট সাবমেরিন | ১৬ টি |
| নৌবাহিনীর মোট জাহাজ | ২৯৫টি |
| বিমানবাহী রণতরী | ১টি |
| দ্রুতগামী যুদ্ধজাহাজ (ফ্রিগেট) | ১৩টি |
| ডেস্ট্রয়ার | ১১টি |
| করভেটস্ (রণতরী) | ২২টি |
| পেট্রোল ভ্যাসেলস (টহল জাহাজ) | ১৩৯টি |
| মা্ইন ওয়ারফেয়ার | ১ টি |


Post A Comment: