বর্তমান বিশ্বে চীন খুবই একটি আলোচিত নাম।সামরিক শক্তিতে এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে চীন। আয়তনের দিক দিয়ে চীন এশিয়ার সবচেয়ে বড় এবং জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীর বৃহৎ। এর আয়তন পৃথিবীর আয়তনের ১৪ ভাগের এক ভাগ। চীন বিশ্বের ৩য় সামরিক শক্তিশালী দেশ। বৃহত্তম অস্ত্রবিক্রেতা, ক্রেতা বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি এই চীন। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশও।

চীন তার দ্রুত বর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তিকে সামরিক পেশিশক্তিতে পরিণত করতে উঠেপড়ে লেগেছে।চীনের সশস্ত্রবাহিনীর নাম পিপলস লিবারেশন আর্মি। এটি ৫টি শাখায় বিভক্ত। সংস্থাগুলো হচ্ছে পিএলএ গ্রাউন্ড ফোর্স, পিএলএ নেভি, পিএলএ এয়ার ফোর্র্স, সেকেন্ড আর্টিলারি কর্পস ও পিএলএ রিজার্ভ ফোর্স। বর্তমানে সব গুলো শাখায় কর্মরত সৈন্যসংখ্যা প্রায় ১ কোটি +। সংখ্যার দিক দিয়ে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক বাহিনী।

চীনের সামরিক শক্তি, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে দেশটির অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্র ও তার এশীয় বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত এবং অত্যাধুনিক বেশ কিছু যুদ্ধাস্ত্র বানিয়েছে চীন। সামরিক শক্তির বিচারে সমুদ্র, আকাশ, মহাকাশ, ইন্টারনেট—সব ক্ষেত্রেই নিজেদের অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে তারা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এরই মধ্যে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ বেইজিং। ভারত মহাসাগরজুড়েও ক্রমাগত নিজেদের আধিপত্য বাড়িয়ে চলেছে তারা। খুব তাড়াতাড়ি নিজেদের অভাবনীয় শক্তির ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য তাইওয়ানের ওপর সামরিক অভিযানও চালাতে পারে চীনের সেনারা, অর্থাৎ পিপলস লিবারেশন আর্মি।

এতে সারা বিশ্বে হয়তো মিশ্র প্রতিক্রিয়া হতে পারে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র নানা বিধি নিষেধ আরোপ করতে পারে কিন্তু চনের তাতে থোরাই কেয়ার! চীনের সামরিক শক্তি অদম্য। এমনকি সাম্প্রতিক এক গবেষণায় অষ্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা প্রতিবেদন দিয়েছেন তাতে স্পষ্ট ভাবে তারা বলেছে যে এশিয়ায় যুদ্ধ বাধলে চীনের কাছে মাত্র কয়েক ঘন্টায় পরাজিত হবে যুক্তরাষ্ট্র। তাই আসুন জেনে নিই চীনের সামরিক সক্ষমতা

ধরণ চীন
আয়তন ৯৫ লক্ষ ৯৬ হাজার ৯৬১ বর্গকিলোমিটার
মোট জনসংখ্যা ১২৮ কোটি ৪৬ লক্ষ ৮৮ হাজার ৯৮৬ জন
জনশক্তি ৭৫ কোটি ২৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ৪০২ জন
জিডিপি ১৪.০৯২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার
মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ৮৭ মার্কিন ডলার
সক্রিয় সেনা ২১ লাখ ৮৩ হাজার
মিলিটারি বয়স ১৮-৪৯
রিজার্ভ সেনা ৫ লাখ ১০ হাজার
পারমাণবিক অস্ত্র ৪০০ টি
ট্যাংক ১৩ হাজার ৫০টি
সাঁজোয়া যান ৪০ হাজার
স্বয়ংক্রিয় আর্টিলারি ৪ হাজার
তোয়ানো আর্টিলারি ৬ হাজার ২৪৬টি
রকেট প্রজেক্টর ২ হাজার ৫০টি
সামরিক বিমান ৩ হাজার ১৮৭টি
যুদ্ধবিমান ১ হাজার ২২২টি
অ্যাটাক বিমান ১ হাজার ৫৬৪টি
পরিবহন কাজে ব্যবহৃত বিমান১৯৩টি
প্রশিক্ষণ বিমান ৩৬৮টি
হেলিকপ্টার ১ হাজার ৪টি
অ্যাটাক হেলিকপ্টার ২৮১টি 
বিমান বন্দর ৫০৭টি 
প্রধান বন্দর ১৬ টি 
মোট সাবমেরিন  ৭৬ টি  
নৌবাহিনীর মোট জাহাজ  ৭১৪টি
বিমানবাহী রণতরী ১টি
দ্রুতগামী যুদ্ধজাহাজ (ফ্রিগেট)  ৫২টি
ডেস্ট্রয়ার ৩৩টি
করভেটস্ (রণতরী) ৪২টি
পেট্রোল ভ্যাসেলস (টহল জাহাজ) ১৯২টি
মা্ইন ওয়ারফেয়ার ৩৩ টি
Share To:

K. Nayeem

Post A Comment: